এক নতুন দেবদত্ত পাড়িক্কালকে দেখল ক্রিকেট বিশ্ব!
আইপিএল ২০২৬-এর পর্দা ওঠার ম্যাচে চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে এক অন্যরকম ব্যাটিং তাণ্ডব দেখল দর্শকরা। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (RCB) এবং সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের (SRH) লড়াইয়ে যখন সবাই বড় স্কোরের অপেক্ষায়, তখন দেবদত্ত পাড়িক্কাল ব্যাট হাতে নেমে যেন প্রতিপক্ষ বোলারদের ওপর রীতিমতো ঝড় তুলে দিলেন। মাত্র ২৬ বলে ৬১ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলে তিনি বুঝিয়ে দিলেন, তিনি এখন অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী এবং ভয়ংকর।
প্রথম বলেই ছক্কা, অনন্য শুরু
জয়দেব উনাদকাটের প্রথম বলটি ছিল পাড়িক্কালের প্যাডে। সাধারণত এই ধরনের বল বাউন্ডারি বা ছক্কা মারার জন্য আদর্শ, কিন্তু পাড়িক্কাল সেটি যেভাবে ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার-লেগ দিয়ে গ্যালারিতে পাঠালেন, তা ছিল দেখার মতো। টি২০ ক্যারিয়ারে প্রথম তিন বলে ছক্কা মারার রেকর্ড তার ছিল না, অথচ এই ম্যাচে প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকিয়ে তিনি নিজের আগমনী বার্তা স্পষ্ট করে দিলেন।

ঘরোয়া ক্রিকেটের সেই ফর্মের প্রতিফলন
এই বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের পেছনে ছিল তার সাম্প্রতিক ঘরোয়া ক্রিকেটের সাফল্যের গল্প। রঞ্জি ট্রফিতে ৫৪৩ রান, বিজয় হাজারে ট্রফিতে চার সেঞ্চুরিসহ ৭২৫ রান এবং সৈয়দ মুশতাক আলী ট্রফিতে ১৬৭ স্ট্রাইক রেটে ব্যাটিং—সব মিলিয়ে পাড়িক্কাল যে স্বপ্নের ফর্মে ছিলেন, তারই প্রতিফলন ঘটল চিন্নাস্বামীতে। ভেনকাটেশ আইয়ারের মতো তারকা থাকার পরেও টিম ম্যানেজমেন্ট যে কেন পাড়িক্কালের ওপর আস্থা রেখেছিল, তা এই ইনিংসেই পরিষ্কার হয়ে গেছে।
বিরাট কোহলির প্রশংসায় পঞ্চমুখ
পাড়িক্কালের ব্যাটিং দেখে মুগ্ধ স্বয়ং বিরাট কোহলি। ম্যাচের পর কোহলি বলেন, “আমি শুরুতে আক্রমণাত্মক হওয়ার পরিকল্পনা করেছিলাম, কিন্তু যখন দেখলাম ও অসাধারণ খেলছে, তখন আমি শুধু ওকে স্ট্রাইক দিয়ে গেছি। ও পুরো ম্যাচটা প্রতিপক্ষের হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে। ওর টাইমিং, ভারসাম্য এবং আত্মবিশ্বাস ছিল বিশ্বমানের।”
কেন এই ইনিংসটি বিশেষ?
- ১১ বলে ৬ বাউন্ডারি ও ছক্কা: শুরুর ১১ বলেই তিন চার এবং তিন ছক্কায় পাড়িক্কাল প্রতিপক্ষের বোলিং লাইনআপ দুমড়ে-মুচড়ে দেন।
- আক্রমণাত্মক মানসিকতা: আগে পাড়িক্কালকে আমরা দেখতাম ধীরস্থিরভাবে ইনিংস গড়তে। এবার তিনি মাঠে নামার পর থেকেই ছিলেন আগ্রাসী।
- চাপমুক্ত ব্যাটিং: ২৬ বলে ৬১ রানের ইনিংস খেলে তিনি দলকে বড় জয় এনে দিতে সাহায্য করেন, যা আরসিবির নেট রান রেটের জন্যও বিশাল বড় অর্জন।
এই পাড়িক্কালকে ক্রিকেট বিশ্ব আগে খুব কমই দেখেছে। তিনি এখন শুধু একজন স্টাইলিশ ব্যাটার নন, বরং একজন ম্যাচ উইনার, যিনি যেকোনো পরিস্থিতিতে প্রতিপক্ষকে ধ্বংস করতে সক্ষম।

Leave a Reply