ঘরের ছেলের প্রত্যাবর্তন: মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সে থিতু হতে চান শার্দূল ঠাকুর
দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান! ছয়টি আলাদা ফ্র্যাঞ্চাইজি ঘুরে অবশেষে নিজের ঘরের দল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সে (MI) ফিরেছেন শার্দূল ঠাকুর। আর ফেরাটা হলো স্বপ্নের মতো। আইপিএল ২০২৬-এর উদ্বোধনী ম্যাচে কলকাতা নাইট রাইডার্সের (KKR) বিপক্ষে ৩৯ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরার খেতাব জিতে নিয়েছেন এই অলরাউন্ডার। ওয়াংখেড়ের ব্যাটারদের স্বর্গরাজ্যে শার্দূলের এই পারফরম্যান্স মুম্বাইকে এনে দিয়েছে বহু প্রতীক্ষিত জয়।
হার্দিকের বার্তা: ‘এখানেই ক্যারিয়ার শেষ করো’
ম্যাচ পরবর্তী উপস্থাপনায় মুম্বাই অধিনায়ক হার্দিক পান্ডিয়া শার্দূলের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। তিনি বলেন, ‘আমি ওকে বলেছি, অনেক ফ্র্যাঞ্চাইজি ঘুরেছ, এবার থামো। আমি চাই তুমি তোমার বাকি ক্যারিয়ারটা এখানেই কাটাও। ও একজন লড়াকু মানুষ, ওর হৃদয়টা অনেক বড়। যেভাবে ও ব্যাটারদের পরাস্ত করার চেষ্টা করে, তা সত্যিই অসাধারণ।’
চ্যালেঞ্জ নিতে ভালোবাসেন ‘লর্ড’ শার্দূল
কেকেআর যখন কোনো উইকেট না হারিয়েই দ্রুত রান তুলছিল, তখন ষষ্ঠ ওভারে বল হাতে তুলে দেওয়া হয় শার্দূলের হাতে। আর এসেই বাজিমাত! ফিন অ্যালেনকে আউট করে মুম্বাইয়ের ম্যাচে ফেরার পথ তৈরি করে দেন তিনি। শার্দূল জানান, ‘আমি চ্যালেঞ্জ নিতে ভালোবাসি। কঠিন পরিস্থিতিতে বল করাটা আমার অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। আজকের পারফরম্যান্স আমার জন্য বিশেষ কিছু।’
স্মৃতির পাতায় ওয়াংখেড়ে
২০১১-২০১৩ সময়কালে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের নেট বোলার হিসেবে যাত্রা শুরু করেছিলেন শার্দূল। আজ সেই মাঠেই ম্যাচসেরা হয়ে তিনি বলেন, ‘এই মাঠের সাথে আমার স্মৃতিগুলো মধুর। নেট বোলার থেকে আজকের এই অবস্থানে আসাটা স্বপ্নের মতো। আমি খুবই খুশি যে মুম্বাই পরিবার আমাকে লখনউ থেকে ট্রেড করে এনেছে এবং প্রথম ম্যাচেই এমন সম্মান দিয়েছে।’
রায়ান রিকেলটনের ঝোড়ো ইনিংস
শুধু শার্দূল নন, এই ম্যাচে আলো ছড়িয়েছেন রায়ান রিকেলটনও। কুইন্টন ডি ককের মতো কিংবদন্তি কিপার-ব্যাটার দলে থাকা সত্ত্বেও রিকেলটনের ওপর আস্থা রেখেছিল টিম ম্যানেজমেন্ট। রিকেলটন সেই আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন ৪৩ বলে ৮১ রানের একটি দুর্দান্ত ইনিংস খেলে। রিকেলটন বলেন, ‘ডি ককের মতো একজন কিংবদন্তির জায়গা পাওয়াটা চাপের ছিল, তবে তার থেকে অনেক কিছু শিখছি। আমরা একে অপরের খুব কাছের বন্ধু এবং ড্রেসিংরুমে তার উপস্থিতি আমার খেলাকে আরও সমৃদ্ধ করছে।’
উপসংহার: শার্দূল ঠাকুর এবং রায়ান রিকেলটনের এই পারফরম্যান্স মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের ভক্তদের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। হার্দিকের নেতৃত্বে এই নতুন মুম্বাই কি পারবে আইপিএলের ট্রফি ঘরে তুলতে? সময় বলে দেবে!

Leave a Reply