১৪ বছরের খরা কাটিয়ে আইপিএলের শুভসূচনা মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের, ধুয়ে ফেলল কেকেআর

১৪ বছরের অপেক্ষায় ইতি, ওয়াংখেড়েতে মুম্বাইয়ের দাপুটে জয়

অবশেষে কাটল দীর্ঘ ১৪ বছরের অভিশাপ! ২০১২ সালের পর থেকে আইপিএলের প্রথম ম্যাচে জয় অধরাই ছিল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের। কিন্তু রবিবার রাতে ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে সেই ইতিহাস বদলে দিলেন রোহিত শর্মা এবং রায়ান রিকেলটন। কলকাতা নাইট রাইডার্সের পাহাড়সম ২২০ রানের চ্যালেঞ্জকে স্রেফ উড়িয়ে দিয়ে মুম্বাই জিতল ৬ উইকেটে।

রোহিতের পুরোনো ছন্দ, রিকেলটনের তাণ্ডব

মুম্বাইয়ের এই জয়ের মূল কারিগর দুই ওপেনার। রোহিত শর্মা যেন ফিরে গিয়েছিলেন তাঁর সোনালী অতীতে। ৩৮ বলে ৭৮ রানের এক ঝকঝকে ইনিংস খেললেন ‘হিটম্যান’। অন্যদিকে, কুইন্টন ডি ককের জায়গায় সুযোগ পাওয়া রায়ান রিকেলটন প্রমাণ করলেন কেন টিম ম্যানেজমেন্ট তাঁর ওপর আস্থা রেখেছে। ৪৩ বলে ৮১ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে তিনি কলকাতার বোলারদের দিশেহারা করে দেন। এই জুটি উদ্বোধনী জুটিতেই তুলে নেয় ৭১ বলে ১৪৮ রান, যা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

কেকেআরের বোলিং আক্রমণের অসহায়ত্ব

টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে কেকেআর দুর্দান্ত শুরু করেছিল। অজিঙ্কা রাহানের ৬৭ এবং অংকৃশ রঘুবংশীর ৫১ রানের সুবাদে কেকেআর নির্ধারিত ২০ ওভারে তোলে ২২০ রান। কিন্তু এই রান নিয়েও লড়াই করার মতো বোলিং আক্রমণ তাদের ছিল না। বৈভব অরোরা, ব্লেসিং মুজারাবানি বা বরুণ চক্রবর্তী—কেউই মুম্বাইয়ের দুই ওপেনারকে থামাতে পারেননি। সুনীল নারিনও যেন নিজের ছায়া হয়ে ছিলেন এই ম্যাচে।

ম্যাচের হাইলাইটস:

  • রোহিতের বিধ্বংসী শুরু: মাত্র ২৩ বলে অর্ধশতক পূরণ করেন রোহিত, যা আইপিএলে তাঁর দ্রুততম।
  • রিকেলটনের পাল্টা আক্রমণ: নারিনকে উড়িয়ে মেরে এবং শর্ট বলের সঠিক ব্যবহার করে রিকেলটন দ্রুত রান তোলেন।
  • শার্দুলের বোলিং জাদু: মুম্বাইয়ের জার্সিতে প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমে শার্দুল ঠাকুর তুলে নেন ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট।
  • ঐতিহাসিক তাড়া: ওয়াংখেড়েতে এর আগে কখনোই ২২০-এর বেশি লক্ষ্য তাড়া করে জেতেনি মুম্বাই।

শেষদিকে হার্দিক পান্ডিয়া (১৮*) এবং নামান ধিরের ব্যাটে চড়ে ৫ বল বাকি থাকতেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। কেকেআরের বোলারদের অসহায়ত্বের বিপরীতে মুম্বাইয়ের এই জয় প্রমাণ করে দিল, আইপিএলের নতুন মরশুমে তারা কতটা ভয়ংকর ফর্মে আছে। ওয়াংখেড়ের গ্যালারি সাক্ষী থাকল এক রূপকথার লড়াইয়ের, যেখানে মুম্বাই ভেঙে ফেলল দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময়ের খরা।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *