ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের হাতছানি: অস্ট্রেলিয়ার জন্য কি বড় বিপদ অপেক্ষা করছে?
বিশ্ব ক্রিকেটের বর্তমান প্রেক্ষাপটে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের জয়জয়কার। এই স্রোতে গা ভাসিয়ে অনেক ক্রিকেটারই জাতীয় দলের চুক্তির চেয়ে ব্যক্তিগত আয়ের দিকে বেশি ঝুঁকছেন। অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট অধিনায়ক প্যাট কামিন্স এবার সেই বিষয়টিতেই নিজের উদ্বেগ প্রকাশ করলেন। তার মতে, খেলোয়াড়দের জন্য এটি এখন একটি বড় ‘টেনশন পয়েন্ট’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জাতীয় দল বনাম ফ্র্যাঞ্চাইজি অর্থের লড়াই
কামিন্স সরাসরি জানিয়েছেন, অনেক খেলোয়াড়ই এখন অর্থের লোভে জাতীয় দলের সিরিজ ছেড়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলতে আগ্রহী হচ্ছেন। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘এই অগাস্টে আমাদের বাংলাদেশ দলের বিপক্ষে দুটি টেস্ট ম্যাচ রয়েছে। দলের অনেকেই সেই সিরিজ খেলার জন্য ‘দ্য হান্ড্রেড’-এর নিলাম থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছেন। কিন্তু সব সময় এমনটা হবে—এমন নিশ্চয়তা দেওয়া কঠিন।’
তিনি যোগ করেন, ‘আমাদের ছেলেরা এখন দেশের হয়ে খেলার জন্য এতটাই মুখিয়ে আছে যে তারা মোটা অঙ্কের অর্থ ত্যাগ করতে দ্বিধা করছে না। কিন্তু আমি মনে করি না এই ধারা চিরকাল অব্যাহত থাকবে।’
চুক্তির অসামঞ্জস্যতা এবং খেলোয়াড়দের মানসিকতা
কামিন্সের মতে, একজন অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার হিসেবে জাতীয় দলের চুক্তিতে যে অর্থ পাওয়া যায়, তা সব ক্ষেত্রে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারে না। কামিন্স নিজে অস্ট্রেলিয়ার কেন্দ্রীয় চুক্তিতে বছরে প্রায় ৩ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার আয় করেন, কিন্তু অনেক খেলোয়াড়ই এর চেয়ে অনেক কম পারিশ্রমিক পান। তাদের জন্য ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ অনেক বেশি লাভজনক হতে পারে।
- মূল্যবোধ বনাম অর্থ: কামিন্স স্বীকার করেন, টেস্ট ক্রিকেট তার কাছে সব সময় অগ্রাধিকার পাবে, তবে তরুণ প্রজন্মের কাছে অগ্রাধিকার ভিন্ন হতে পারে।
- দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা: ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া এখন শীর্ষস্থানীয় খেলোয়াড়দের ধরে রাখতে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির কথা ভাবছে।
বিবিএল প্রাইভেটাইজেশন ও ভবিষ্যৎ
বিগ ব্যাশ লিগ (বিবিএল)-এর বেসরকারিকরণ নিয়ে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেটে যে বিতর্ক চলছে, কামিন্সের এই মন্তব্য তাতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। কামিন্স মনে করেন, অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটকে যদি তার সেরা খেলোয়াড়দের ধরে রাখতে হয়, তবে চুক্তির ধরন এবং সময়সূচীতে পরিবর্তন আনতে হবে।
কামিন্স স্পষ্ট করেই বলেছেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক হিসেবে আমার প্রধান দায়িত্ব হলো সেরা দল নির্বাচন করা। কিন্তু বিশ্বজুড়ে আমাদের খেলোয়াড়দের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। আমাদের সেই চাহিদার সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে, যাতে আমরা কাউকে না হারিয়ে ফেলি।’
শেষ কথা
ক্রিকেটের পেশাদার যুগে খেলোয়াড়রা সেখানেই যাবে যেখানে অর্থ এবং সুযোগ বেশি। প্যাট কামিন্স যা বলছেন, তা হয়তো অদূর ভবিষ্যতেরই প্রতিচ্ছবি। তবে টেস্ট ক্রিকেটের ঐতিহ্য বজায় রেখে কীভাবে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের সঙ্গে ভারসাম্য রক্ষা করা যায়, সেটাই এখন ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
